ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বোমা হামলা অব্যাহত রয়েছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত এই অঞ্চলে শনিবার মধ্যরাত থেকে ইসরায়েলি হামলায় শিশুসহ অন্তত ৫৯ জন নিহত হয়েছেন।
রোববার (১৮ মে) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা, চিকিৎসা সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে।
চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে, মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় নিহতদের মধ্যে দক্ষিণ গাজার কথিত ‘নিরাপদ অঞ্চল’ আল-মাওয়াসির এলাকার ৩৬ জন রয়েছেন।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত ৫৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। আহতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে এক লাখ ২০ হাজার।
টানা ১৫ মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা সামরিক অভিযানের পর আন্তর্জাতিক চাপ, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর চাপের মুখে গত ১৯ জানুয়ারি ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে। তবে দুই মাস পার হওয়ার আগেই, ১৮ মার্চ থেকে গাজায় ফের অভিযান শুরু করে দখলদার বাহিনী। দ্বিতীয় দফার এই অভিযানে গত প্রায় দুই মাসে নিহত হয়েছেন ৩ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি এবং আহত হয়েছেন ৮ হাজারের বেশি।
অন্যদিকে, হামাসের হাতে জিম্মি থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে এখনো অন্তত ৩৫ জন জীবিত রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা সামরিক অভিযানের মাধ্যমে এই জিম্মিদের উদ্ধার করতে চায়। এর জেরেই গাজায় হামলার তীব্রতা আরও বেড়েছে।
জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় গাজায় সামরিক অভিযান বন্ধের জন্য একাধিকবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। ইতোমধ্যে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ এনে জাতিসংঘের আদালত নামে পরিচিত ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে (আইসিজে) একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তবে নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, হামাসকে পুরোপুরি দুর্বল ও অকার্যকর করা এবং জিম্মিদের মুক্ত করাই তাদের এই অভিযানের লক্ষ্য। তিনি আরও বলেন, এই লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত গাজায় অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আরএন