ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা বলেছেন, “সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা জনিত পরিস্থিতির কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম কিছুটা ধীরগতিতে চলবে এবং এখন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাই অগ্রাধিকার পাবে।”
সোমবার সন্ধ্যায় ডেইলি অবজারভার-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। সাক্ষাৎকারটি ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যাকাণ্ড ও দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ডাকসু নির্বাচন ঘিরে চলমান বিতর্কের প্রেক্ষাপটে নেওয়া হয়।
অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা বলেন, “শাম্যর নির্মম হত্যাকাণ্ডে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গভীরভাবে শোকাহত। দোষীদের গ্রেপ্তারে আমরা ঢাকা মহানগর পুলিশকে (ডিএমপি) চাপ দিচ্ছি এবং আশা করি দ্রুত ফলাফল পাবো।”
ডাকসু নির্বাচন এই ঘটনায় পিছিয়ে যেতে পারে কি না?—এমন প্রশ্নের জবাবে ড. বিদিশা বলেন, “ডাকসু অবশ্যই আমাদের অগ্রাধিকার তালিকায় আছে। আমরা সব প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। শাম্য নিহত হওয়ার পরের দিন, অর্থাৎ বুধবার, একটি বৈঠকের কথা ছিল যেখানে ডাকসুর গঠনতন্ত্র ও নির্বাচন কমিশন নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই বৈঠক আর করা যায়নি।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা একটি পরিকল্পনা করেছিলাম এবং তার আলোকে এগোচ্ছিলাম, তবে এখন সেই কাজ কিছুটা বিলম্বিত হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন গঠন বাইরে থেকে যতটা সহজ মনে হয়, আসলে ততটা সহজ নয়। একজন কমিশনারকে যথেষ্ট অভিজ্ঞ এবং সকল রাজনৈতিক দল ও মতাদর্শের কাছে গ্রহণযোগ্য হতে হবে। একজন লেকচারারকে তো আর কমিশনার বানানো যায় না।”
জানা গেছে, সম্ভাব্য কয়েকজন নির্বাচন কমিশনার বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন।
অধ্যাপক বিদিশা জানান, ডাকসু নির্বাচন প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে ইতোমধ্যে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কমিটি গঠন করা হয়েছে: ১. প্রো-ভিসি (প্রশাসন) এর নেতৃত্বে ছয় সদস্যের পরামর্শ কমিটি ২. প্রো-ভিসি (শিক্ষা) এর নেতৃত্বে সাত সদস্যের আচরণবিধি প্রণয়ন ও সংশোধন কমিটি ৩. আইন অনুষদের ডিনের নেতৃত্বে গঠনতন্ত্র সংশোধন কমিটি।
তিনি বলেন, “এই তিনটি কমিটির প্রথম ধাপের কাজ শেষ করে দ্বিতীয় ধাপে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, ঠিক তখনই এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। ফলে আমরা এখন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে জরুরি পদক্ষেপ নিচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের বর্তমান প্রধান অগ্রাধিকার হলো সাম্য হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।”
ঢাবি শিক্ষার্থী সাম্যর মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ডাকসু নির্বাচনের পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত রাখতে বাধ্য করেছে।
তিনটি বিশেষায়িত কমিটি গঠনের মাধ্যমে নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হলেও প্রশাসনের দৃষ্টি এখন পুরোপুরি ক্যাম্পাস নিরাপত্তা জোরদারে কেন্দ্রীভূত। অধ্যাপক বিদিশার বক্তব্যে স্পষ্ট যে সঙ্কটময় সময়ে প্রশাসন ভারসাম্যপূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠানিক শাসনব্যবস্থা ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণকে বিবেচনায় নিচ্ছে।
ডাকসু নির্বাচনের কাজ তালিকায় থাকলেও, এখনকার জরুরি প্রয়োজন হলো শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সাম্য হত্যার সু-বিচার নিশ্চিত করা, যা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্বশীল ও মানবিক অঙ্গীকারকে সামনে আনে।